Showing posts with label Short. Show all posts
Showing posts with label Short. Show all posts

Saturday, October 22, 2016

সেই ছিলো এক দিন আমাদের


আমার পুরো ছোটোবেলা জুড়েই বাড়িতে একটা দারুণ ব্ল্যাক-অ্য্যান্ড-হোয়াইট টিভি ছিলো, আপট্রন কোম্পানির - তার সঙ্গী ছিলো ছাদের উপর একটা নড়বড়ে অ্যান্টেনা, তাতে কাক-পায়রা একসাথে বসে পাড়া পাহারা দিতো, আর মা বলতেন বাইরে বাজ চমকালেই দৌড়ে গিয়ে টিভি অফ করে দিতে - বজ্রবিদ্যুত-সহ বৃষ্টি  না হলে ওই অ্য্যান্টেনা বেয়ে টিভিতে ঢুকে পড়বে যে কোনোদিন। সত্যি বলতে কোনোদিনই জানা হয়ে ওঠেনি, সত্যি ওর'ম হয় কিনা, তবে এখনো বাইরে বাজ-টাজ পড়লে অল্প-স্বল্প ভয় করে ওঠে।

আপট্রনের কৈবল্যপ্রাপ্তি আর কোনোদিনই হয়নি - শুধুই ডিডি ওয়ান, ডিডি টু আর মাঝে মাঝে টিভির কানটা আরো বেশ কয়েক ঘর মুলে দিলে ঝাপসা করে ডিডি থ্রি। আমাদের পাশের ঘর ভাড়াটেদের আবার বাংলাদেশের লাইন ছিলো, মাঝে মাঝে বিকেলের মলয় বাতাসে দুই অ্য্যান্টেনায় ঠোকাঠুকি লাগলে দিব্যি ঢাকার খবর শুনতে পেতাম, কিস্যু বুঝি আর না বুঝি - বেশ খানিকক্ষণ হাঁ করে দেখে নিতাম, এখন যেমন জুপিটারে নাসার পাঠানো প্রোবের তোলা ছবি দেখি অবাক বিস্ময়ে ...

ঠিক মাঝের ঘরে একটা মান্ধাতার আমলের পুরোনো টেবিল ছিলো, তার উপরে রামকৃষ্ণ-সারদা-বিবেকানন্দের ছবি আর দুটো সাদা ফুলদানির মাঝে জ্বলজ্বল করতো আমাদের আপ্ট্রন, মাথায় মায়ের বোনা নক্সা-করা কভার পরে। আর তার চিরসাথী ছিলো তাপসদা, পাড়ার বেকার যুবক, এদিক-ওদিক অ্যাপ্লাই করে বেড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে পড়শিদের বাড়ি বাড়ি টিভি আর রেডিও সারাতো। মধ্যেমধ্যেই মাস ছয়েক কেঁপে কেঁপে, বাবার হাতের চড়-থাপ্পড় খেয়ে যেদিন আপট্রন দেহ রাখতো, আমার উপর হুকুম পড়তো - সারা পাড়া ঘুরে কোনো একটা রকের আড্ডা বা ক্যারমের বোর্ড থেকে তাপসদাকে ধরে আনা ! গাঁইগুঁই করতে করতে তাপসদা আসতো, সারাদিন লেগে থেকে সন্ধ্যে সাতটার খবরের ঠিক আগে টিভি আবার জেগে উঠতো কি করে যেন, তাপসদা কি কি চার অক্ষর বলতে বলতে রকের আডডায় ফিরতো তা জানিনা, তবে আমি ভাবতাম লোকটা নির্ঘাত ম্যাজিক জানে ... শেষের দিকে তাপসদা আর টিভি কেমন মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে গেছিলো, বিকেলে ঘুরতে ঘুরতে তাপসদা চলে আসতো বাড়িতে, চা খেতে খেতে টিভির পেছন খুলে কিসব চিপ-ফিপ লাগিয়ে গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে যেতো, পয়সাও নিতো কিনা কে জানে, সেদিন রাতে আপট্রনের আওয়াজে যেন একটু জোর পেতাম ...

প্রাইমারী থেকে সবে সেকেন্ডারি উঠলাম, বিকেলে বাড়ি ফিরতাম স্কুলে বকুনি-প্যাঁদানি খেয়ে, কোনো-কোনোদিন আবার খাতায় গার্জেন-কলের চোখরাঙানি - ফিরেই মেট্রো চ্যানেলে শুরু হতো সুপার-হিউম্যান সামুরাই, সে এক অন্য লেভেলের ফিউচারিস্টিক শো, কম্পিউটারের তার বেয়ে কিছু ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া বাচ্চা গিয়ে ডাইনোরূপেণ সংস্থিতা ভাইরাসদের কেলিয়ে আসতো, আমার বাংলা মিডিয়ামের বিদ্যেয় তাদের কথাবার্তা বুঝতাম না, কিন্তু ক্যালাকেলি দেখতাম রসিয়ে-রসিয়ে ... গোগ্রাসে গিলতাম মহেশ ভাটের টার্নিং পয়েন্ট, আর মানেকা গান্ধীর শো 'হেডস অ্য্যান্ড টেলস', যার একটা এপিসোড দেখে প্রায় এক বছর নিরামিশাষী হয়ে গেছিলো সেই দশ-বারো বছরের আমি !

এসব হলো গিয়ে সেই শেষ নব্বুইয়ের কথা, তখনও জীবনে দফা ৩০২ আসেনি, ডেবোনেয়ার তখনও কীটসের কবিতার মধ্যে লালকালিতে দাগানো একটা শব্দ, যার মানেটা দিদিকে জিগ্যেস করে নিতে হবে একদিন - সেই সময় আমার জীবনে নিষিদ্ধ আনন্দের জানলা ওই ব্ল্যাক-অ্য্যান্ড-হোয়াইট আড়াই চ্যানেলের বোকাবাক্স। সেও এক রোমহর্ষক অ্য্যাডভেঞ্চারের গল্প। ওদিকে বিষ্যুদবার পৌনে আটটা বাজবো, বাজবো করছে - বাবা মুখের সামনে আনন্দবাজার বা লাইব্রেরী থেকে আনা শঙ্কু মহারাজের ভ্রমণকাহিনী ধরে একটার পর একটা সিগারেট টানছে আর মা রান্নাঘরে তিন-চারটে রোবিন্দোসঙ্গীত আর অতুল্প্রসাদী ম্যাশ-আপ করে একটা মেলোড্রামাটিক ভজন গাইতে গাইতে রুটি বেলছে, আমার আর দিদির তো আর বীজগণিতে মন নেই, চিত্রহারে নিশ্চয়ই এতক্ষণে আর্ধেক শেষ - এমনি সময় deuce ex machina-র মতন অব্যর্থ কলিং বেল, নিতাইকাকু ওষুধ নিতে এসেছে - অর্থাৎ বাবার থাবা মিনিট দশেকের জন্য অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে - সত্যি বলছি, ঐ যে শেষ হতে হতে, কোনোরকমে ভল্যুমটা আস্তে করে লাস্ট দুটো গান শুনে নেওয়ার যে তৃপ্তি, টাকা দিয়ে কনসার্টে গিয়েও পাইনি আর কোনোদিন ...

বাবা ঠিক করে দিতেন কোনগুলো বাচ্চাদের উপযুক্ত শো, আর কোনগুলো এক্কেরে নৈব-নৈব চ, যেমন ধরুন আপনি রোববার সক্কালে টিভি খুলে বসে গেলেন, টেলস্পিন চলেগা, ডাকটেলস-ও চলেগা, কিন্তু চন্দ্রকান্তা-কি-কাহানি? নোপ ! ওদিকে মহাভারত, রামায়ণ, স্বপ্নিল যোশির শ্রীকৃষ্ণ চলতে পারে, মাঝদুপুরে জননী, সন্ধ্যে পড়লেই জন্মভূমি, কিন্তু সি-হক্স দেখলে চ্যানেল ঘুরিয়ে দেওয়া হবেই হবে, আর সুপারহিট মুকাবিলা? ভাবাই যায় না ... সে যখন নাম পালটে হয়ে গেলো আওয়াল নাম্বার, লুকিয়ে-চুরিয়ে দেড় মিনিটের গান শোনার আশায় কত মিনিট যে বাবা সায়গলকে সয়েছি, ভাবলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে ...

তাও বিদ্রোহ তো হতোই, নীলাঞ্জনা যদি নচিকেতার হন, আমার তবে নিকি অনেজা, আর দিদির তবে আধাআধি করে এদিকে রাঘবন, ওদিকে ক্যাপ্টেন ভ্যোম, মিলিন্দ সোমান। আর বিকেল হলে মা যখন একটু গড়িয়ে নিচ্ছে, সেই ফাঁকে অকথ্য বাংলায় ডাব করা সোওয়াভিমান ... প্লটের মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝতাম না, হাঁ করে কিটু গিদোয়ানিকে দেখতাম ...

রোব্বারের বিকেলে বাংলা সিনেমাটা চলতো বটে, মাঝেসাঝে পাড়ার দু-একটা কাকা-জ্যেঠা শুদ্ধু হই-হই ব্যাপার, তবে সেন্সর-সমেত, যেই না বৃষ্টির রাত্রে দেবশ্রী ছাদে উঠে গান ধরলেন, 'আর কত রাত একা থাকবো?', বাবার চোয়াল অমনি কঠিন হলো, আর তক্ষুণি জানা গেলো শীতলা-মন্দিরের পাশে চপ ভাজা হচ্ছে, দু মিনিট দেরি হলেও একটাও কচুরি থাকবে না আমাদের জন্য ...

যে দুটো জিনিষ এইসবের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতো অক্ষত দেহে, একটা হলো খেলা, আর এক ছিলো ডিটেক্টিভ সিরিজ, আর ছিলোও সেসব দারুণ দারুণ, কুচো বয়সে রজিত কাপুরের ব্যোমকেশ, তারপর এলো শেখর সুমনের রিপোর্টার, সুদেশ বেরির সুরাগ ... সুরাগ কিন্তু এর মধ্যে একটা মাস্টারপিস, যারা দেখেননি, তারা জানেনও না সে কি জিনিষ, সুদেশ বেরি ঠিক লাস্ট মোমেন্টে এসে খুনীকে ধরবেন, আর ধরার পরেই সেই মুখের সবকটা মাসল কাঁপিয়ে সেই অমর ডায়লগঃ দিস ইস চেক, মেট !

বাংলাও অবিশ্যি পিছিয়ে ছিলো না, দুপুরের দিকে হতো এক-শুন্য-শুন্য, আর সপ্তাহে একদিন (?) রাত্রে 'আবার যখের ধন', যাতে আবার একটা গোরিমান-টাইপের কস্টিউম পরা ঘটোৎকচ এদিক-ওদিক ঘাড় মটকে বেড়াতো, আর দ্বিজেন বন্দ্যো যেই বলতেন 'বিমলবাবু ভাই', সব্বাই হেসে গড়িয়ে পড়তো ... (অনেক, অনেক পরে বাংলায় একবার ব্যোমকেশ হয়েছিলো, সুদীপ মুখার্জীকে দিয়ে, সে যাকে বলে চাঁদেও দ, আর পোঁদেও দ, দেখতে দেখতে মনে হতো দিই এক ঠাস করে !), আর ছিলেন পঙ্কজ রায়, বিকেলে আসতেন দর্শকের দরবারে, আর সেইসব একলা বৈশাখের দিন নববর্ষের বৈঠক নিয়ে ...

এর মধ্যে কোত্থেকে যেনো হুহু করে বাজারে ছেয়ে গেলো কেবল লাইন, আর সে 'অনির্বচনীয় হুন্ডি শুধু দু-একজনের হাতে' ... স্কুলের বাসেই তখন আসল ক্লাসটা হয়, যাদের কেবল, তাঁদের কারুর কারুর আবার কুল বাপমা, বাসে যেতে যেতে সবাই জুলজুল করে শুনতাম রাত্রে রেন্দেজভ্যুস-এ সিমি গারেওয়াল কি কি বল্লেন, আর জি-তে কি সিনেমা আসবে সে সপ্তায় ...

আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম, আমি আর সব বন্ধুরাই, নাইন-টেনে উঠতে উঠতে বুঝলাম, ডিডি-১ আর ২ ততদিন ডাইনোসরের প্রপিতামহ, বন্ধুরা বড়দের সামনে ইএস্পিএন, ডিসকভারি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং আড়ালে এফ-টিভি আর রেন টিভির গল্প করতো, আগের সপ্তাহে কারা লুকিয়ে বেওয়াচ দেখেছে, আর আমরা, বাকিরা টিভির দোকানের সামনে জমা ভিড়কে জিজ্ঞেস করে নিতাম, 'দাদা, ক'টা উইকেট পড়লো?', আর পরের দিনের আনন্দবাজারে খেলার পাতাটা পড়তে পড়তে ভাবতাম একদিন শালা আমাদেরও দিন আসবে ...

আমাদেরও দিন এসেছিলো, তবে কেবল লাইন দিয়ে নয়, সেই দুরদর্শনেই, সে এক আশ্চর্য schadenfreude, নরেন্দ্রপুরে ঢুকে দেখলাম বড়োসড়ো খেলা বাদে টিভি চলে না, খালি একচিলতে রোদ্দুর, শুক্রবারের রাত, একবাটি মাংসের ঝোল, আর একটা হিন্দি সিনেমা - এক গোটা হোস্টেল একটা পঁচিশ ইঞ্চির টিভিতে হাঁ করে সুনীল শেঠঠির 'ভাই' কি সানি দেওলের 'ঘায়েল' দেখছে, এমনকি চোর চুরি করতে এসে বোঁচকা পাশে রেখে হাত্তালি দিয়ে উঠছে, এ দৃশ্য যদি দেখতে চান, চলে আসুন কলকাতা - ১০৩!

টিভির সাথে সম্পর্কটা সেখান থেকেই আস্তে আস্তে ফুরিয়ে গেলো, নরেন্দ্রপুর শেষ করলাম, আই-এস-আইতে এসে দেখলাম একটা টিভি লাউঞ্জ আছে বটে, তবে কেউ না কেউ সবসময়ই বসে কিছু না কিছু  খেলা দেখে - আর কখনো কখনো বনহুগলির মোড় থেকে ভাড়া করে আনা সিডি। এক বন্ধুর কাছ থেকে ফ্রেন্ডস দেখা শিখলাম, দেখলাম কেউ মজার কথা বল্লেই নেপথ্যে হাসির রোল পড়ে যায়, কেমন জানি কথামৃত মনে পড়ে গেলো, ঠাকুর বসে পিজে মারলেই যেখানে শ্রীম ব্র্যাকেটে লিখে দেন "পার্ষদবৃন্দের হাস্য" ... আর যে গার্লফ্রেন্ড ছিলো তখন, তার বাড়িতে গেলেই দেখতাম একঘরে তার মা বসে কিউঁকি দেখছেন, আরেক ঘরে তার বাপ বসে সিএনবিসির ফুটনোট !

তারপর সে যেন কয়েকশো বছর পেরিয়ে গেলো কি করে, সিনেমায় নামার শখ চেপে চেপে একদিন একটা স্টেজে উঠে পড়লাম, দেখলাম উইংসের ধার থেকে কেমন মায়ামাখানো লাগে অডিয়েন্সের আবছা অস্তিত্ব, সে এক অন্য বসন্ত আমাদের - কমল্কুমার এলেন জীবনে, ক্রমে আলো এলো, আগুন, মুখোশ, পরচুলা ইত্যাদি নিয়ে  এলেন সন্দীপন, একদিন একটা রিহার্সালে গৌরবদা অ্য্যাক্টিং করতে করতে মেঝেয় ঠুকে পাটাই ভেঙ্গে ফেললো - নাটক-ক্লাব শুরু হয়েও বন্ধ হতে হতে, পড়লো আমাদের হাতের তালুতে ... টিভি তখন সময়-নষ্টের নামান্তর !

এই তো পরশুদিন ভারত ক্রিকেটে একদম লাস্ট ওভারে গিয়ে হেরে যাওয়ার পর এক জুনিয়রের পোস্ট দেখে মনে পড়লো দশ, না কুড়ি বছর আগের এক রাতের কথা, ব্যাঙ্গালোরে ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, আমাদের সব ব্যাটসম্যান আউট, মা-বাবা মন-খারাপ করে বাইরের ঘরে বসে আছে যাতে টিভিতে হেরে যাওয়াটা দেখতে না হয়, আমার তো বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে না ... এমনি সময় জ্বলে উঠলেন কুম্বলে আর শ্রীনাথ, স্টিভ ওয়া-র বলে একটা বিশাল উঁচু শট আর অম্নি আপ্ট্রন অন্ধকার, আমার চিৎকার শুনে বাবা দৌড়ে এসে এক চড় কষালেন টিভির পাশে, আর একটা বিশাল ছক্কা গিয়ে পড়লো চিন্নাস্বামীর গ্যালারিতে, আহ নস্ট্যালজিয়া !

তারপর অনেক কষ্টেও মনে করতে পারলাম না, শেষমেশ কি হলো সেই টিভিটার? তাপসদাই কি শেষে একদিন এসে নিয়ে গেছিলো না সকাল আটটার কর্পোরেশনের বাঁশির আওয়াজে একদিন রাস্তার ধারে নামিয়ে দিয়ে এসেছিলাম আমি-ই? মনে পড়লো না! মনে পড়লো তাপসদাকে দেখে দেখে আমার বাবাও টিভির কলকব্জা শিখে গেছিলেন দিব্যি, মাঝে মাঝে একটা ইস্ক্রুপ ড্রাইভার নিয়ে টিভি খুলে বসে পড়তেন, ঠোঁট থেকে ঝুলতো উইলস ফ্লেক! আমরা তখন মনে মনে প্রমাদ গণতাম ... এই গেলো বুঝি !

সত্যি বলতে গেলে খুব রাগ হতো, পাশের বাড়ির টুব্লুদাই কেবল টিভির ডিস্ট্রিবিউটার, তাও নেবে না -
ওরা অবশ্য ভাবতো ওইটা নেই বলেই না আমরা ফি বছর ব্যাগভর্তি নম্বর নিয়ে বাড়ি ঢুকছি আর দেশের-দশের মুখ উজ্জ্বল করছি -

বললে পেত্যয় যাবেন না, দেশের নাহক পাড়ার মুখ প্রায় উজ্জ্বল হয়ে গেছিলো আরেকটু হলেই, সেবার জয়েন্টে নরেন্দ্রপুরের সবাই স্ট্যান্ড-ফ্যাণ্ড করে ফাটিয়ে দিয়েছি, আর চ্যানেলে চ্যানেলে বেমক্কা ব্যাচের লোকজনের ইন্টারভিউ দেখাচ্ছে - অনেকক্ষণ এদিক-ওদিক ঘুরিয়েও আপট্রন সেদিন কিছুই দেখালো না, সন্ধ্যে ছটার খাস-খবর খুলেই লাফিয়ে উঠলো বাবা, কিন্তু টাইটেলেই যে টাইপো - দত্তকে কে যেন দানা করে দিয়েছে, একবার নয়, দু-দুবার !

ছানার শোক, না দানার শক কোনটা বাপের গায়ে বেশী লেগেছিলো সে জানিনা, কিন্তু আপ্ট্রনের গল্পের ইতি সেইখানেই ...


Sunday, October 9, 2016

ইস্কুলের গল্প - ১

(শীর্ষেন্দু একজায়গায় লিখেছিলেন, 'মানুষ মরে গেলে ভুত হয়, আর ভুত মরে মার্বেল হয়', তেমনি আমাদের অনেক মুখচোরা, ভয় পাওয়া ইচ্ছেরা মরে তৈরী হয় এক-একটা মন-কেমন করা বিকেল, আর বিকেলগুলো মরে কী তৈরী হয় জানো? 
             বাজারের থলে দেখেছো? উল্টোলেই একটা দুটো পেয়াঁজের খোসা কোত্থেকে ঠিক বেরিয়ে পড়বে, সেইরকম কতগুলো জিনিষ কেমন করে যেন আলগা হয়ে লেগে থাকে আমাদের সাথে, কবে এসেছিলো জানিনা, আবার কোনদিন ঝাড়তে গিয়ে বেরিয়েও যাবে, তাই গল্পগুলো এইবেলা লিখে ফেলা ভালো।)


আমরা যে স্কুলটায় পড়তাম, তার নাম বরাহনগর মিশন, এবং তার নামকরণ যে সার্থক একথা কেউ কোনোদিন অস্বীকার করবে বলে মনে হয় না, যদিও সরকারী বানানে 'হ'টা বেমালুম উড়ে গেছে কাউকে না বলে - আমাদেরও তাই আর কিছুই হয়ে ওঠা হয় নি শেষমেশ। তা এই বরানগর স্কুলে ওয়ান থেকে টেন অব্দি ক্লাস, প্রথম পাঁচটা ক্লাস ভেতরে প্রাইমারি, শেষের পাঁচটা সামনের খেলার মাঠের পাশেই, বি-আই কোম্পানির সঙ্গে পাচিঁল ভাগাভাগি করে। দিব্যি ছিলো স্কুলটা, পাড়াতেই রাজকুমারী স্কুল, আর রোজ সকালে ঠিক দশটা বাজতে দশে সামনে দিয়ে এক এক করে বাসগুলো যায়, একটা মাল্টিপারপাস, একটা নিবেদিতা, আর ফেরে বিকেলে ছুটির পর ... ছেলেদেরও ওই দুবার শারুখখানী পোজ দিয়ে গেটের সামনে দাঁড়ানো ছাড়া খুব একটা জীবনে খুব যে আর বেশী উদ্দেশ্য-বিধেয় ছিলো এমন ভাব্বার সত্যিকারের কোনো কারণ নেই, তো মোট কথা দিব্যি ব্যাপারটা চলতো আস্তে আস্তে, ফিসফিস করে, যেমন সব ছোট্ট শহরতলিতে হতো সেই নব্বুইতে। সেই সাইকেল করে টবিন রোডের কাছে কোচিং, তার পাশেই জেরক্সের আর একটু এগোলে চপ-ফিশফ্রাই-এগরোলের দোকান -- আর দোকানের পাশে মাঠ, "ছুটির বৈঠক"। ঠিক এই সন্ধ্যে ছটার সময় যদি যান, দেখবেন আলোগুলো আজকেও কেউ জ্বালতে ভুলে গেছে, এদিক ওদিক দূরে দূরে, ঠিক যতটা দূরে বসলে আর কথা বোঝা যায় না তেমনি দূরে কয়েকটা জমাট বাঁধা অন্ধকার। আমরাও আসুন একটা সাইড দেখে একটা সান্ধ্য আজকাল পেতে বসে পড়ি, সিগারেটও আছে, ঘটিগরমের লোকটাও আসবে এক্ষুনি, আমরা বরং হাঁটতে হাঁটতে ফিরে যাই সেই অবুঝ, অস্পষ্ট, অন্ধকার রাস্তাটায়, যার নামটা সবাই ভুলে গেছে, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় খালি নম্বরটা পড়তে পারছিঃ  ১৯৯৯।


সেই সময় স্কুলে একসাথে দু-দুটো ঘটনা ঘটলো। এক নম্বর, বলা-নেই-কওয়া-নেই দুম করে স্কুলে একটা ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হয়ে গেলো, বোর্নভিটা অ্যাকাডেমির কাছে স্কুলের টিম গিয়ে শুন্য রানে অল আউট হয়ে ফিরে এলো - আর তাকে সামাল দিতেই হবে হয়তো, একটা গোবেচারা-পানা ছেলে গাঁতিয়ে পড়ে মাইধ্যমিকে ফার্স্ট হয়ে গেলো (আমার ধারণা ছায়া প্রকাশনীর আদি-অকৃত্রিম পোস্টার বয় সেই, যদিও আমার গেঁজেল মেমোরি যা চায়, ইতিহাস তাই নয়)। তা এসব মহাজাগতিক ঘটনা চাক্ষুষ-টাক্ষুষ করে কয়েকটা জেনারেশন বাপ-মার মাথাটা গ্যালো বিগড়ে। হঠাৎ সবাই বুঝলো যে সাফল্যের চাবিকাঠি খুজঁতে আর টর্চ লাগবে না, এক্কেবারে হোলসেলে কিলো-দরে পাওয়া যাচ্ছে যোগেশদা-দিব্যদা-সুদীপ্তদার আখড়ায়। আমার বাপ-মা, অর্থাৎ আমি, যে এই রেনেঁশায় এক্কেবারে দুম করে গিলোটিন হয়ে গেছিলাম তা নয়, তবে অচিরেই দেখলাম স্কুলের পরে বাড়ি গিয়ে আর সাতটা পয়ঁতাল্লিশের চিত্রহার নেই, আছে হুড়ুদ্দুম করে 'অভাগীর স্বর্গে'র নোট টোকা। এমনকি রোববার সকালেও যে জম্পেশ করে চন্দ্রকান্তা কি কাহানি দেখবো আর ক্রূর সিং কে খিস্তাবো, সে গুড়ে বালি, চুন ও সুড়কি। পি আচার্যের ভাষায় আমার দুর্যোগে তখন ঘনঘটার ভাগ্যাকাশ, কিন্তু ঠিক এই সময় একজন দারুণ লোকের সাথে আলাপ হয়ে গেলো, তার কোচিং-এ পড়তে গিয়েই - ভদ্রলোকের নাম সুভাষদা, সুভাষ মুখোপাধ্যায় - নাঃ সেই কবি সুভাষ নন, যিনি ফুল খেলবার দিন নয় বলে অদ্য মেট্রো স্টেশন হয়ে গেলেন, তবে এই গল্পটা ইনি না হলে হতোই না হয়তো ...


সুভাষদা ঠিক কেমন ছিলেন বলে বোঝানো অসম্ভব, একটা গোলগাল পরিতৃপ্ত চেহারা, মাথায় একঝাঁক কোঁকড়া চুল, আর সত্যিকারের উদাত্ত গলা ... সবথেকে বড়ো ব্যাপার, প্রথম দিন-ই ক্লাসের পর ডেকে বললেন বইয়ের ওসব বাজে কবিতা না পড়ে এসো আমরা টি এস এলিয়ট পড়ি, আর রিলকের দুইনো এলেজি ... আর শুধু ওই 'যদু হে, মাছ কিবা'র ভাব সম্প্রসারণ না করে, চলো বইটাই পড়ে ফেলি ... এখন যখন পিছনে তাকাই, মাঝে মাঝে সেই বিকেলটার কথা মনে পড়ে, জয়েন্টের রেজাল্ট বেরোনোর পরের দিনই, সুভাষদার বাড়ির ছাদে আমরা বসে চা খাচ্ছি, খুব চুপচাপ, সেই মধ্যবর্তী নৈঃশব্দ - খানিকক্ষণ পরে সুভাষদাই ভাংলেন, "তা তুমি যাদবপুরেই যাবে, সেই একটা টি কাঁধে ঘুরে বেড়াতে, আর গাছতলায় বসে গাঁজা খেতে?" ... উত্তর দিতে পারিনি।


যাহোক, আমি আসল গল্পটার থেকে এদিক-ওদিক বাইলেনে ঢুকে পড়ছি, সেই ছোটোবেলার অভ্যেস তো, চট করে যেতে চায় না, না? তা এই গোটা টাইমটায় আমার একমাত্র অ্যাচিভমেন্ট বলতে গেলে ওই মাঠে দু-একবার সিগারেট খেয়ে দেখা, আর একবার ক্লাস মনিটর হয়েও স্কুল পালানো বন্ধুদের নাম হেডুকে না বলে দেওয়া -- মোটামুটি ঐ বইতে আর নোটসে মুখ গুঁজেই কেটে যাচ্ছিল নাব্য নব্বুই, কোত্থেকে যে দখিন বাতাস ঢুকে একে একে সবকটা বন্ধুরই উইকেট ফেলে দিয়েছে সেটা বুঝতে একটু বেশ দেরি-ই হয়ে গেলো, একদিন দেখলাম কোচিং থেকে বাসস্ট্যান্ড অব্দি সঙ্গে হাঁটার আর কেউ নেই, সিগারেট টাও একাই কিনতে হচ্ছে স্কুলব্যাজ টা পকেটে লুকিয়ে।



নিয়তি দেখেছেন তো, নিয়তি? মাতালকে যা নিয়ে যায় বাংলার বোতলের দিকে, আর ডিপ্রেশানের রুগীকে রেললাইনের ধারে, এই সেই নিয়তি, তা প্রেমে আমিও ধপ করে পরেই গেলাম, সঙ্গে পড়ার মতন লোকের আর অপেক্ষা না করেই। সে এক দারুণ সময় বটে, যাই দেখি, বয়ঃসন্ধির ব্রণর মতন থেকে থেকেই অল্প বসন্ত জেগে ওঠে, সে কুমার শানুর নাকিগলায় গান শুনে-ই হোক, কিংবা টিভিতে ক্যাডবেরির অ্যাড দেখে। কিন্তু বিধি বাম, 'শুধাইলো না কেহ' ... হঠাৎ এই সময় একদিন দেখি কোচিং-এর পরই একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে গলির মোড়ে, হাত একটা সদ্য কেনা - রাংতাটাও না ছাড়ানো উইলস ফ্লেকের প্যাকেট ...


ছেলেটির আসল নামটা চেপে যাচ্ছি, ধরা যাক ওর নাম সন্দীপ আর ও সেদিন ওই সিগারেটের প্যাকেটটা হাতে যার কথা বলবে বলে দাঁড়িয়ে ছিলো, তার নাম ধরে নেওয়া যাক অমৃতা ... সন্দীপ ভালো ছেলে, বাপে-মায়ে পড়িয়ে-পিটিয়ে মানুষ করছেন, ছেলেও কেসিনাগ-কেপিবোস আর মাইতি-সাঁতরা করে ফি বছর ক্লাসে জ্বলজ্বল করে ওঠে। যদিও বাংলাটা একটু ইয়ে, মানে জয়েন্টে লাগবে না কাজেই পড়ে খুব একটা লাভ নেই যাকে বলে -- তো সন্দীপ এসে বললো যে একটা চিঠি খুব দরকার, যার মূল বক্তব্য হচ্ছে যে ও অমৃতাকে খুবই ইয়ে করে, কিন্তু একটু কবিতা-টবিতা না থাকলে ঠিক ব্যাপারটা জমছে না। আমি তো হাতে স্বর্গ পেলাম (এবং একটা গোটা প্যাকেট ফ্লেক!) ... জানা গেলো, আমি-ই পত্রলেখক ও বাহক, খালি তলায় নামটা আমার নয়। যেমন ফেলুদার গল্পে হয়, সেরকম পারিশ্রমিক, শুরুতে ফ্লেক, মাঝে একটা দুটো এগরোল, আর উঠে গেলে নেভি কাট ...
আমার দৌড় তখন শেষের কবিতা অব্দি, তাও আবার দিদির দৌলতে, যে নিবেদিতায় পড়ার সৌভাগ্যে বোধহয় পুরো বইটাই এপাশ-ওপাশ গাঁতিয়ে ফেলেছে ততোদিনে ... তা শুরতে ভাবলাম অমিত রায়কে টুকলি করে জন ডান ঝেড়ে দিই, (যাকে বলে টুকলি-অব-অর্ডার-টু) ...

"For God's sake, hold your tongue and let me love" ... 

একটা পায়োনিয়ার কোম্পানির ফুলস্ক্যাপ পাতা ছিঁড়ে উপরেই সেটা লিখেও ফেললাম ... কিন্তু কেমন একটা বুকটা ছ্যাঁতছ্যাঁত করতে লাগলো, হাজার হোক - ব্যাঙ্কের কেরাণী মধ্যবিত্ত বাঙালি বাপ, Tongue দেখে পানু ভেবে কেলিয়ে দিলে হয়ে গেলো আর কি ... আবার তন্নতন্ন করে খুঁজলাম শ্যাষের কবতে, এইবার এলো সংস্কৃত -

 'স্মরগরল খন্ডনং মমশিরসি মন্ডনম, দেহি পদপল্লবমুদারম' ... 


লিখেই কেমন একটা সাত্ত্বিক শাহরুখ ভাব এলো, কিন্তু সন্দীপ টিফিনের সময় বললো অমৃতাদের ইস্কুলে হিন্দি অ্যাডিশনাল, সংস্কৃত নাই ... ওসব চলবে না ...

দিন যায়, রাত যায় - এদিকে আমি তো আর যুতসই কবিতা পাই না, প্রথমে গিয়ে ধরলাম পাড়ার একটা পাতাখোর কবিকে, সে আবার সকালে প্রাইমারী স্কুলে পড়ায়, দুপুরে পার্টি অফিসে ম্যানিফেস্টো বিলোয় আর রাত্রে অল্প তন্ত্র-মন্ত্র করবে বলে গাঁজা টেনে 'মা-মাগো' করে আর্তনাদ করে। সে বললে, "প্রেম মানে নীরা, নীরা মানে যে রানীর উল্টোস্রোত, যেমন ধারার বীপ্রতীপ রাধা" ... তখনো 'গুগুল তোমার দারুণ দীপ্তি ফেলেছে জগৎ ঢাকিয়া' টাইপের টাইম নয়, আর পাড়ার নবজাতক লাইব্রেরীতে হেমেন রায় আর সত্যজিৎ ছাড়া কিছু ঢোকে নি কোনোদিন ... অনেক কষ্টে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে চুরি করিয়ে আনলাম সুনীলের একটা বই, মলাটে আবার বাড়ির লোককে ধোঁকা দেওয়ার জন্য লেখা 'প্রশ্ন বিচিত্রা' ... সে কবিতাগুলি যে কি ভালো ছিলো কি আর বলবো, সেই যে সুনীল লিখছেন যে তিনি সাবান হয়ে যেতে চান, নীরা তাকে নিয়ে কি কি সব তারপর করবেন ...
নাঃ, নীরা সেই চিঠিতে জায়গা পেলোনা, আমার সাহস-ও যে হয়েছিলো তা নয় ... তবে একদিন 'বুকে বল, হাতে পেশী, কথা কম, কাজ বেশী' করে সুভাষদাকেই ধরলাম ক্লাসের পরে ...

"স্যার, দু মিনিট সময় হবে? একটা সাজেশান চাইবার ছিলো ... "

জীবনে সাজেশান শব্দটাকে সুভাষদা কেনো, আমার ধারণা সব মাস্টাররাই হেব্বি ঘেন্না করে, তবে এই একবার ভদ্রলোক দেখলাম একেবারে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলেন, বললেন, "আমার যে গুরু বাংলায়  লিখে আরেকটা পৃথিবী বানিয়ে ফেলেছেন, তাঁরই দু-লাইন বরং তোমাকে বলি, কনিষ্ক ...

"তুমি তো জানো না কিছু – না জানিলে,
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে" 

...
আমার বুকের ‘পরে সেই রাতে জমেছে যে শিশিরের জল,
তুমিও কি চেয়েছিলে শুধু তাই;
শুধু তার স্বাদ
তোমারে কি শান্তি দেবে?"

পুরোটা বলে অনেকক্ষণ বাইরে চেয়ে থাকলেন সুভাষদা, বললেন ধার-দেনা করে বাজারে আলু-পটল কেনা যায়, প্রেমের চিঠি লেখা যায় না। 

            সেদিন রাত্রে আর ঘুম হলো না ঠিক করে, জেগে থাকলাম - বাবা-মা শুয়ে পড়ার পর বাগানের জবা গাছটার তলায় দাঁড়িয়ে একটা ফ্লেক খেয়ে ফেললাম সাহস করে, অনেক অনেক ভাবলাম - তাকে কি লেখা যায়, যাকে আমি হয়তো এই একবারই কিছু বলবো? অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে যেন নিজেরই ভিতরে নামছি মনে হলো, কিন্তু কই টর্চ নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন না তো রবি ঠাকুর ! -- অনেক ভেবে ভেবে সেই রাত্রে দুটো লাইন লিখলাম আমার বেনামী প্রেমপত্রের জন্যঃ  

"বৃষ্টি, কি নামে ডাকলে তোমায়,
ঝরে পড়বে আমার ঘরে, 
এই এখানে, এই এখন-ই?"

নাঃ, সন্দীপ আর অমৃতার বিয়ে হয়নি, ওরা একে অন্যজনকে নিশ্চয়ই অ্যাদ্দিনে ভুলেও গেছে, আমার-ই বা কি মনে আছে আর? সেই চিঠিটা গন্তব্যে যে পৌঁছেছিলো তা জানি, আর আমি সেই নেভিকাটের প্যাকেট-টাও একবিকেলে ছুটির বৈঠকের মাঠে দেদার উড়িয়ে দিয়েছি দখিনা হাওয়ায়, যে বিকেলে ওরা ঘুরতে গেছিলো ময়দানে ... তারপর কত গল্প আসে, কত বিকেল যায়, ছুটির বৈঠক থেকে সিগারেটদের ঠিকানা হয় প্রথমে হোস্টেলের ঘর, তারপর আর্ধেক পৃথিবী দূরে একটা বরফ-ঢাকা শহর,  তারপর তারাও হারিয়ে যায় ... এখন কেউ জানে না কে কোথায়, সত্যি বলতে কি, সেই সুভাষদা কি বেঁচে আছেন এখনো? তাও জানার সুসময় আসেনি ... তবে যে কৈফিয়ত দিয়ে শুরু করেছিলাম সেটাই আবার দিই, ওই শুকনো পেঁয়াজের খোসার মতন এই একটা-দুটো লাইন কোথায় যেন লেগে ছিলো, আজ ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিলাম এক্কেরে ... 

Thursday, April 7, 2011

অ্যাই ঘুম ...



ঘুমটা ভেঙে গেলো, কটা হবে? সকাল চারটে কি পাঁচটা - ঠিক ঠাহর করতে পারলাম না - মোবাইলটা হাতড়াচ্ছিলাম, পেলাম না অন্ধকারে - জানলায় ব্লাইন্ডসের ফাঁক দিয়ে যেটুকু আকাশ দেখা যাচ্ছিলো - তাতে বুঝলাম 'আলো ক্রমে আসিতেছে', আলো এসেছিলোও হয়তো - হয়তো আমিও হাত বাড়িয়েছিলাম কিছু খুঁজতে, মনে নেই - মনে নেই কেন ঘুমের মধ্যে গুটিয়ে গেছিলাম নিজের মধ্যে - তারপরেও যে কীসব হয়ে গেলো  -  আজ সকাল থেকেই নিজেকে খুঁজছিলাম - রাস্তার ধার থেকে কুড়িয়ে পেলাম এই মিনিট দশেক হলো, ঘরে ফিরলাম - এক কাপ চায়ের সাথে কয়েক চামচ দুঃখবিলাসিতা - লেখার কথাটা ঠিক তক্ষুনি মাথায় এলো - মনে পড়লো কাল, পরশু আর এরকম কয়েকটা দিন আমি তন্নতন্ন করে ঝোপেঝাড়ে, ডায়রিতে আর আঙ্গুলের ফাঁকে কি খুঁজছিলাম -

যখন ছোট ছিলাম, জানতাম মা ঘুমোতে যায় রাত বারোটারও পরে - আর ওঠে সেই কাকভোর - চারটে, সাড়ে চারটে - গাছে জল দিতো, ঠাকুরঘরে একটা মিষ্টি ধূপ - আর চান করে আসতো নতুন জলে, আমার ঘুম ভেঙ্গে ওঠা মানে আমার ছোট্ট ঘরটায় মা-মা গন্ধ আর এককাপ চা - আমি ঢুলতে ঢুলতে গজগজ করতে করতে কোচিং ক্লাসে যেতাম আর ভাবতাম, মা পারে কি করে? - মা বলতো মায়ের ঘুমটা নাকি মা আমাদের ভাইবোনের চোখে দিয়ে দেয় রোজ শুতে যাওয়ার আগে - কোচিং ক্লাস শেষ হয়ে গেলো, ছোটোবেলাও - আমি শপিং মল শিখলাম - সাইবার কাফে শিখলাম - রাস্তা পেরোতে শিখলাম হাত না ধরে আর একদিন হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে বুঝলাম আমিও পারি, মায়ের মতন - রাত্রে দু-তিন কি বড়ো জোর চার - আমি কিন্তু কাউকে দিইনা আমার ঘুমটুকু - তাও পেরে যাই -

এদেশে এখন আড়াইটে মানে দেশের বারোটা - মাকে ফোন করি অফিস থেকে বেরিয়ে - কোনোদিন তিনটে, চারটেও হয় এক একদিন - মা একবার রিং হলেই ধরে - কখনো টিভির আওয়াজ পাই - কখনো মা পত্রিকার পাতা ওল্টায় - বাবার যেদিন বুকের জল জমেনা, সেদিন খুব ঘুমোয় নাকি - অন্যদিন ... সে গল্প মা বলে না কখনো - বরং মা আমাকে সেই ট্যাক্সিওলার গল্প শোনায় যে মাকে মাত্র দুশো টাকায় রোজ নিয়ে যায় - বা সেই ডাক্তারের যে নাকি বলেছে বাবাকে ভালো করে দেবেনই এইবার - আর সেই আমাদের না হয়ে ওঠা বাড়িটার কথাও বলে, সেই যে সেই বাড়িটা - যেটার আর কিছু থাক না থাক একটা সুন্দর ঠাকুর ঘর আছে আর মায়ের জন্য একফালি একটা বাগান - "এবারের ডালিয়া ফুলগুলো খুব সুন্দর হয়েছে জানিস তো?" - আমি শুনে যাই - মা বলে - বলেই যায় - আমার তারপরে কোনোদিন ক্লাসের তাড়া পড়ে যায়, কোনোদিন লাঞ্চটাইম - কখনও রাস্তা পেরোতে হবে বলি শুধু - মা ফোনটা রেখেও খানিকক্ষন জেগে থাকে - বাকি কথা গুলো মনেমনেই শেষ করে নেয় বোধহয়, কে জানে? - আমাদের চোখ ছুঁয়ে রোজ রাত্রে কতকিছু চলে যায় - মায়ের আঙ্গুল আর ঘুম দিয়ে যায় কিনা আমি সত্যি জানিনা,শুধু জানি মা পারে, শুধু জানি আমাকেও পারতে হবে - না হলে হবে কি করে?

বিকেলের দিকে ঠিক যেই আলোটা নিভে আসে, আমি ঘরে ফিরি - অন্ধকারকে যে খুব ভয় করে তা কিন্তু নয় - তবুও - এসে আমি এটাসেটা করি , কোনোদিন রান্না, কোনোদিন পড়াশুনো - ওকে জড়িয়ে শুয়ে থাকি কোনোদিন, কোনোদিন অকারণে খানিকক্ষণ কেঁদে নিই , রাত্রে একসময় এ শহরের সবকটা আলো নিভে যায়, ও ঘুমিয়ে পড়ে, ডুবে যায় আমার মধ্যে- আমি রাত্রির দিকে তাকাই - জানলার সামনে যে নদীটা , তার ওপাশে অনেক অনেক আলো - যেন সেই 'রাস্তার ছোটো ছোটো গর্তে জমানো আমাদের চোখের জল' - নদীর ওপার থেকে সেই অলৌকিক ঘণ্টাটা আমায় ঠাট্টা করে যায়- উঠে পড়ি আমি - কানে কয়েকটা স্বপ্ন ভেসে আসে - ফোনে মায়ের গলাটা এত আবছা শোনায় যেন ফিসফিস করে কেউ কিছু বলছে - আর কেউ জানতে না পারে যেন - আর তক্ষুনি আমাদের ধরে থাকা আঙ্গুল  ছাড়িয়ে, ওই জানলার ব্লাইন্ড পেরিয়ে, ওই হাজামাজা নদী পেরিয়ে - রাত্রের ঘন্টাকে ভেংচি কেটে উড়ে চলে যায় আমার ঘুম-আমি ঊঠে বসি আর খুঁজে বেড়াই ওকে - খুঁজতেই থাকি -

অ্যাই ঘুম, ফিরে আয়! আয় বলছি ! এক্ষুনি !

Saturday, January 15, 2011

Inbox (1)

Onekkhon hoye gelo, phone-o korle na ekta, chithi tar-o uttor nei .. Tumi jano aami sei sokal theke mail khule bose aachi ei elo, ei elo kore, ekta kore notun mail asche ar heartbeat du-ekta kore miss korchh aami, ar dekhchi sei kon travel site-er biggyapon nahole social network-er nemontonno .. rege mege shuyei porlam kombol tene .. ghum-ta asbe asbe korche, emon somoy hothat kemon jeno bhoy korlo jano? sei dube jawar bhoy-ta .. shwash-kashto holo khub , aami dhormoriye uthe computer-ta bandho korlam, ah ! ekta cigarette, ekta ...

Aamar boyes takhon katoi ba hobe, aat ki dosh, parar pukure ar sob bacchader sathe hoihoi kore snatar shikhchi .. oder modhye sobtheke paka chilo Laltuda, o-i tokhon amar captain, aami or ekonistho chyala .. ekdin snatar katchi- amader trainer ektu dure, Laltuda bollo 'cho ke aage pukur cross kore dekhi' .. khub jore snatrachhi... hothat majhpukure ese kemon jeno dom furie gelo, dekhlam haat-pa kicchu narate parchi na - ar dube jachi barbar kore, chitkar korlam- gola diye awaj berolo na .. chokher samne shudhu sobuj jol ar majhe majhe bheshe uthle dekhchi Laltuda oipare, trainer khokakaku takhon-o onyo bachhader bhasa shekhacche - gyan ferar por shunechilam aami naki dubei jetam sedin, pukurer oikhane naki ekta masto baro kuyo chhilo, tai keu oidiktay jeto na ... porer din theke ar oi pukure jaini ... asambhob bhoy korto jano .. ekhon-o majhe majhe sei bhoy-ta kottheke fire aase, sei sobuj jol ar dure , anek dure bakira - keu amay dekhte pacche na ..

Boyos bere gelo, pukur-tay ar aajkal keu snatar shekhe na, buje geche kina tai ba ke jane .. Khokakaku-o ekdin bhorbela onek durer ekta dighee-te snatar katte chole gechen amader paare fele rekhe ... ar aami sapto-sagor periye chole esechi kanch-dhaka aquarium-e, ekta chotto nol diye majhe majhe burburi kete oxygen aase, ar dhakna khule ektu khabar, ar aami ek-kone konomote katiye diy hele-jawa ritu-chokro .. sukhei thaki, baro sukhe ... tao majhe majhe mone hoy ekbar ekta ghai mere uthi, joler upor-ta dekhe aasi, koyekta rong chini, koyekta shabdo kane ase .. abar dube jai bhitore, goponiyo kathar maton ...

Sondhe name eksomoy, ei khupri basement-er ghorer bhetore haway urte thake koyekta chehara-heen kotha, ar rattir-ta jhup kore neme jaay - aami aalo jwele diy, ar takhon opaar theke daak aase, 'aachis?' .. ar songe songe fire aase aamar boyos-sondhi - arekbar jhanp dey oi gobhir britte, bhetor theke ek a-parajito kobi tar bhanga kalam hate arekbar uthe dnaray pranpon .. 'hya, ei elam, tumi aacho Nandini?' ...

Hajar hajar shabdo khose pore kotha theke jeno, duto ki tinte ghanta mane to ek-ekta rupkotha-i ... tao sesh hay eksomoy, aamra fire jai chena kakkho-pothe, chokhe-mukhe joler jhapta dite dite mone pore jaay aamar barmoheen shoreer ar charidiker ostro-sashtro-teer-teerondaaj .. jege uthi onek ratre, baire brishtir awaj pai ar kobita-ra pash fire shoy aamar dike .. bhorer aalo lukiye-churiye dhoke amar ghore ar swapner samay sesh hay aanguler dogay ese .. aajkal ei shaharer kothao kothao khub mon-kharap kara hawa dey thik takkhuni, jano?

Tumi esob bojho, hayto ba, hayto kichui na .. hayto aami-o sob-ta bujhini ekhono, Nandini ki tahole tumi-i? hayto na .. hayto tumi Nandini-r thekeo baro, hayto ba shudhui sei lok-tar chokhe-mukhe lege thaka sesh aalotuku tumi ... je dube jacche roj, ar uthte uthte ekbar kore pranpon dekhe nicche tomake .. ar tumi .. tumi sei purono pukurer ghate snan korte korte tar sokol dubonto kobitar dike shudhu ekmutho nirbaak chhunre diccho aalgoche ..

Sunday, December 5, 2010

কৈফিয়ৎ

সত্যি বলছি, আজকাল আর ওটা হয় না, বিশ্বাস করুন... এই নিয়ে বার পাঁচেক খাতাটা খুলে বসেছি, এক লাইন করে ভুলচাল লিখেওছি ... ব্যস ... ওই অব্দিই ... মাইরি বলছি, আমি জানতাম, আমার দৌড় ঐ চাট্টি কবিতার বেশী নয়, তাও ...

এই মাসটাই না এইরকম, জানেন তো, এই ডিসেম্বরের শুরুটা ... কলকাতায় ঠিক যে সময় বরফ পড়তে শুরু করে, ঠিক সেই সময় - আমি বুঝতে পারি ও এসেছে, ওর গলা পাই, ও আমাকে ডুবিয়ে দেবে, দেবেই ...

কফি হাউসে ঢং ঢং করে নটার ঘন্টা পড়তো, আর দুটো শরীরকে চেয়ারের জিম্মায় ফেলে রেখে দু-কাপ ইনফিউশান বেরিয়ে পড়তো ভিড়ে, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে চিৎকার করে উঠতেন জন লেনন ... সেও একটা সময় ছিলো বুঝলেন, সারা রাত আমি ফুল ছিঁড়ে ছিঁড়ে বীজ ছড়াতাম ও-র বুকে, আর সকালে দেখতাম কেমন সে পাপবৃক্ষের ডালে এসে শিষ দিচ্ছে একটা নতুন আনকোরা পাখি ... দেরাজ থেকে টেনে নিতাম অস্ত্র-শস্ত্র, কালি কলম আর নির্ভুল বেজে উঠতো রিংটোন... আঃ !

ঠিক এই সময়, একটা আওয়াজ , খুব জোর ... কলকাতায় কারফিউ শুরু হলো, মা বললেন, রাস্তায় নাকি খুব গন্ডগোল, দুটো বোকা লোক গুলি খেয়ে মরে গেছে আর বাবা টিভি থেকে মুখ না সরিয়ে বললেন, 'এদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া উচিৎ' ... আমি চুপিচুপি ফিরে গেলাম কোণের ঘরে, আমার চৌকিতে ... আর ভোররাতের স্বপ্নটা খুব দ্রুত বিস্বাদ হতে হতে দেখলাম সেই পুকুরপাড়টায় আমি আর ছোটকা বসে আছি, ছোটকা একটা নিভে যাওয়া বিড়িতে ফুঁ দিয়েই চলেছে আর আমার হাতে কে যেন ধরিয়ে দিয়ে গেছে ওর একটা চিঠি ... এমন সময় বাঙ্গালপাড়ার দিক থেকে হু-হু করে হাওয়া দিতে শুরু করলো, ডিসেম্বরের হাওয়া ... আমি ছুটতে শুরু করলাম ... নিতাইদার ফ্যাক্টরি থেকে বাচ্চা আমার নাম ধরে ডাকছে পিছন থেকে, সারাদিন জানলায় বসে থাকা মিত্তির বাড়ির বৌটাও কেমন তাকিয়ে দেখছে আমায় ... আর আমি বুঝতে পারছি আলো নয় ... 'অন্ধকার ক্রমে আসিতেছে'...

তারপর থেকেই আর ওটা হয় না, জানেন ... এই ডিসেম্বর মাসটাই ...আমি জানি ও রোজ আসে ... আর বিকেলের দিকটায় খুব হাওয়া দেয় পুকুরপাড়ে গেলে... আর কিচ্ছু জানিনা ...

Monday, August 16, 2010

___ থমকে গেছে, আমি হাসতে হাসতে দেখছি, থমকে যাওয়া একটা শব্দকে, আলো আর স্বপ্নের মাঝামাঝি সময়টায় যেভাবে আমার ভয় করে উঠতো আর হাতড়াতাম একটা সুইচ ... সেভাবেই কেটে কেটে বসে যাচ্ছে ভিতরে অনেকগুলো মুখচোখ ... এইবার, এইবার ড্রপ্ সিন আর অশ্লীল হাততালি ... চন্দন লেপে দিচ্ছে মুখেচোখে, তারপর ঘি ... একটা প্রচন্ড জোরে আওয়াজ ... ধোঁয়া আর কমলা রঙের একটা বিশাল বল ... "A Second's Silence and then ... Oblivion" ...


"আকাশ জুড়ে শুনিনু,ঐ বাজে, ঐ বাজে" ... জয়ন্তদার নাচের স্কুল, আমি আজ খেলার মাঠে প্রথম সিগারেট ... ফেরার পথে আরেকটা মোড় পেরিয়ে গেলাম আমি ... নন্দিনীর চোখের তলায় কালি পড়েছে, ওকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে কী ভীষণ, মায়ের ছত্রিশটা শাড়ি উইয়ে কেটে দিয়েছে, দিদির দরকারি বই ... রোদ্দুরে উবে গেল, সেই সময় ও কয়েকটা কান্না ...



চোখ বুজে চুম্বনের স্বাদ মনে করার চেষ্টা করছি আমি, জলে ভিজে বাড়ি ফিরছে অসময়ের কবিতারা ... আর প্রথম শব্দটা আসতে গিয়ে আটকে যাচ্ছে আমার চৌখুপ্পি ছোট্ট ঘরের দরজায় ... আমি মৃত, ম্লান শব্দদের দিকে তাকালাম, বললাম ... "ওঃ ... তোরা এসেছিস ?" ... অমনি একটা ধোঁয়ার কুন্ডলী সোজা উঠে গেল, বাবাইদাদাদের ছাদ আর মায়ের পোঁতা ন্যাড়া সুপুরি গাছটা ছাড়িয়ে ... " A Second's Oblivion .. and then .. Silence"


আমি আবার চোখ বুজলাম নন্দিনীর স্বাদ মনে করার জন্যে ... ফোনটা বেজে যাচ্ছে, যাক ... চোখ খুললাম ... আলো আর স্বপ্নের মাঝে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়লো প্রথম শব্দ ...


জল পড়ে যায়, পাতা তবু নড়ে না ...

Wednesday, September 23, 2009

Mithye.. mithye?

"Aaj theke sob mithye katha tomar holo,
Jemon amar sob kobitai Shankha Ghosher"     [Srijato]

Mithye kathar sathe aamar samparko ta besh jotil ebong kichhuta gopon .. orthat anekta abidho prem-er mato .. tabu, bodhhay ei ekta jinis aamar bna-haater kore angulti sasnehe dhore hnete esechhe gato pochhis ta bachhar, badhyo premikar mato .. ebong ekhan ei akaal bardhokye jakhan aaynay damra galfola ekta lumpener mukh ke nijer mukh bole mene nite hay, takhan-o abore-sabore sei mithyei aamar sarkari R chinho .. dekhe na nile thokben ..dekhe nileo ...

                                         Takhan aami nehat-i chhoto chhilum, baap-jytahar dhamak kheye half-pentul pore douratam dokan-bajare, amar Aranyadeb takhan kilawui-er belabhumite Diana-ke niye jabo jabo korchhen, parar morer lalu-bhulu takhan lyaj ar jib narate narate aamar pichhu pichhu .. hathat samner barir anjali pisi kan-ento kara hasiti hese jigges korten .."baptuuuuuuuuu ... kothaaaaaaaaaaay cholliiiiiiiiiii?'
 .. etake protibiplob bole kina jana nei , tobu sei nishpaap shoishobeo onake mithyeta na bole, sotti bolchhi partam na .. mudir dokan jaoar thakle boltam laundry, laundry hole hayto binay-er pan-biri-r dokan .. ebong seshmesh hayto konotitei na giye jetam chhotrish mile durer ek hindusthani dokane, jekhane ek takar jinis paoa jeto baro aanay .. ar bari fire school-er bag gochhate gochhate amlanbadone boltam ..'ei samay tay bujhle ma, baddo bhir ..' ..

sei baro aana ekhan fule fnepe kothay dariyechhe janina.. aami school,college,office anekkicchu periye ese pouchhechhi adhuniktamo mrityu upotyokay .. aamar sei aranyodeb ekhan kilawui-er belabhumi chhere ese binay-er dokane pan bandhen, Anjali pisima o tar jhargushti ke aami hawa kore diyechhi kobe se khabar Anandabazar-o rakhen na .. tobuo .. ei ekakitwer majheo aamay bhoriye rakhe sei mithye sobkichhu ..

Mithye ekta jiban.. tar sathe amar mithye mithye samprako ... tader niye chhotrish  hajar mithye kobita o galpo .. ar bodhkari tar chaiteo beshi kichhu mithye hoye jaoa swapno .. sotti-i to .. mithyegulo na thakle bakita kothay dnarabe bhabteo bhay kore .. na? athacho,ei ektao sotti hole ki aami khushi hotam?...

Janen .. aamake Nandini jakhan bole .. aami naki ekdin baro habo.. khub bhalo likhbo jakhan .. aamar lekha boi hoye berobe .. sei takhan o porbe aamar boi .. o seidintar jonye apekkha kore ... aami prathomei protibad kori , hese orai tarpor anek kicchu agdum bagdum bolte bolte dekhe feli sei ek-i swapno .. Aamar boi .. Aamar akshar .. Nandini-r aanguler dogay ese gole jachhe ghumer mato ..

Nandini majhpothe katha chhere chole jaay .. Paronto bikele e shaharer sajano footpath diye hnete hnete aami bari firi khub bhalo mone .. Aamar bna-haater kore aangul ta chhunye thake se .. Mithye ..

Tuesday, August 25, 2009

Ekti bichhinnotabadi sanglaap ...

Eta 2009 saal .. Aamar bari kolkatay .. Dumdum-er oidiktay .. aamar barir samne ekta khub purono jamrul gachh aachhe.. aage anek gulo chhilo..ekhon eke eke morte morte ektai achhe .. oi sadakaku der uthoner uporei gachh ta .. baba bolen baba jakhan chhoto chhilen.. takhan naki oi gachhe uthten.. aami chhotoobelay khub bhitu chhilum.. ebong hya..bhalo chheleo.. aamar oi gachh tar sathe bandhutto sudhu aamar ekti aswastikar thikana-chinhe ... aamar parar naam jamrultala ...

Aamader ekta khelar maath-o chhilo...Santra-paray .. majar katha holo oi paray ekjon-o santra thake na .. ar ekta club chhilo..amader kayekjoner toiree kara.. Prabaho.. naamta kar matha theke beriyechhilo ei bardhokye mone pare na.. tobe eta sure je tar durodrishti asamnayo chhilo.. bingsho shotabdi sesh habar sathe sathe je kata jinish e prithibi theke uthe jaay tar modhye 'Prabaho' chhilo anyotamo .. kono ek barshar bikele mathe katogulo lok ese khunti punte diye chole jaay .. tarao ar fereni mathe.. amrao na .. Prabaho apatato stabdho hoye parer prajanmer dike asahay drishti chhunre dey bikelguloy.. er theke beshi bodhhay tar kicchu deoar chhilo na konodin-i ...

Ei bhabei bodhhay aamader chhotobela gulo ekta ekta purono jolchhobi hoye jaay aamader ajante .. amader britto gulo ektu ektu kore chhoriye pore.. aamra jara baro hote shikhe gechhi khub taratrai ..tarao shikor kete feli ekdin ar bhabi ..'ei to besh urchhi ..na?' ..... na ..eta oi aabege chobano bhjije biscuit nay .. eta oi aadi akrittim ekakitwo .. eta oi ekta paranto bikel.. aami eka ekta barite ba park-er bench-e ..nijei nijer kandhe haat rekhe bolchhi .. 'cho..sondhe hoyechhe.. bari fera jak ebar ' ...

Karon.. eta oi santra-parar churi hoye jawa math na.. eta Salisbury.. eta sujog khojar desh .. ar kicchui khuje na pawar ba konokicchhui khujte na chawar desh .. ekahne bikel hay rate.. raat hoy sakale . ar sakal gulo lajjay ar mukh tule takay na surjer dike .. Ekhane sob kicchui bhalo, sundor, kothao etotuku jeno moila nei .. aami-o roj hantte hantte sankuchito hoye jai.. bodhhay ei ektu nongra kore dilam.. agochhalo kore dilam prithibir brihattamo show-piece take ... lajja hay . bishwash korun.. hay .. oi je bollam na.. taratari baro hote bhalo hote shikhechhilum.. ar tar fnake kakhan je roddur bishti jal hawar bhasha bhule gechhi bujhte deyni keu ... Majhrate jakhan ese bosi aamar ghore .. ardhek prithibi dur theke bheshe aase bondhu der gala ... ektu aabchha .. ektu aspashto .. ar anekta anyarakam....

'Kire kemon mosti hochhe?' .. 'Ektao blonde tulli?' ... 'Kemon lagchhe bol tor swapner desh?' ....

Aamader ekta anko chhilo class five-er gonit boi-te .. sabbai parto.. oi je ekta choubachhay duto kol aachhe..ekta diye 10 minute-e choubachha puro bhorti hay ..arekta diye 5 minute-e bhorti choubachha khali hoye jay... duto eksathe chalale katokkhone bhorti hobe choubachha ta?..

Ektu ultoplata bollam na number gulo? .. Na Mahoday..

Welcome to America !!!....

Monday, June 15, 2009

I need you

I need you
I was going to write something about my old wallet, but suddenly it seemed ridiculous. Yes, it's torn and almost unusable, the wallet that felt happy with even a hunderd rupee note cannot any more stand the friction of my credit cards. Maybe, it will leave me soon and a branded new one will replace the 'Shreeleather's dirty sack, still ..
I was almost a kid then, and like every other kid of my age, a huge fan of Suman Chattopadhyay.. there was a time I didn't read Rabi Thakur, but I knew the whole of 'Bose Aanko' or 'Jatismar' .. I don't remenber why he ever stopped, or, even if he had stopped at all..but, somehow we were left orphan .. I heard there was some problem, I didn't believe a single news that spoke bad about him.. I felt defeated.. Maybe, for the reason that he was the first person in my life I felt I have some kind of unseen resonance ..
And then it came, I saw it on the third page of Anandabazaar Patrika, trying to peep out from a pageful of Basak Jewellers and D.K.Lodh's... he's there again, the album, as I remember was named 'Reaching Out'.. the small ad had lines of a song, rendition of the 'Tomake Chai' .. in a somewhat different mood.. I saved the cutting in my diary and many times thought I'd whisper it on one of the never-ending calls to the ones I really wanted ..
I don't remember how many years passed by and how many such songs I have whispered to the women on those endless nights... The small paper-cutting still resides in my torn wallet, the lines never uttered ...


In the trails of the evening breeze,
In a drop of peace, in a moment's ease
In a tired, half-hearted smile,
In a comfort that's so fragile,
In the secret nook of a hidden wish,
In a fantasy you may call childish,
In my dreams, in my foolishness
In the depth of my emptiness ..
I need you ..
It just occurred to me ...

"Give me a prejudice and I shall move the world"

It was a late night 'maal party' at Mitra's place, and we were watching 'once', a musical. A good movie, I must say, and at places inspiring and heart-wrenching. The movie ended but the humming tune was hovering in the dim-lit ambience, and to me suddenly it seemed the most beautiful tune in the world. At times, I really feel sad that I cannot play the guitar. It's become like that childish dream of being 'Tipu Sultan' someday.

The ambience gave way to the famous (?) 'bhalo bhaat', a form of highly productive and construtive gossiping that only few have mastered till date. It started with the never-cliched topic , 'dream of being something someday'... and converged to 'love' in no time, I realised I am slowly getting intoxicated. I know this has happened to me always, in every sessions of these 'maal party's and 'bhaat's, I get that strange drowning feeling, as if I am getting drowned slowly in a quick-sand and I am enjoying every bit of it.Inevitably her face 'flashes upon my inward eyes'... I was thinking of the short story I've written sometimes back..

'Ekta sesh biplober opekkhay,
Rupkothara matha rakhe ashtray-r kole'

'I.. I don't know .. What do you think, revolution exists? .. Somehow, all these terms 'revolution', 'change' somehow sounds too much phoney to me.. somehow.. I can't believe in all these shit..'

'I think, rather I believe it exists, but I also know that my life is too short to witness one .. but maybe when it does there will be a contribution from me, the dreamer's contribution.. I believe in revolution, for I know it will be there one day, and we just cannot fail to recognise when it's there.. we, the dreamers are a minority..and that's why we hold strong to our beliefs.. and that's where we pass/fail ..'

The smoking ace drew a last cigarette from his case and in the dim light he could see a climax he has never written before, it was her, and she was laughing hysterically... and as she laughed like a lunatic.. her face was covered with certain grimness that he'd never seen before .. and he suddenly thought 'revolution' can never exist .. at least for him.. !!

Thursday, June 11, 2009


The Corpse and Me .. (2)

I had a theatre group in the small town where I grew up, it started as an alternative to the daily nothingness we always felt. I never loved theatre, and writing was something I knew was beyond my caliber, the only thing I thought I could do was try telling the stories I have seen around me, camouflaging them as stories of other men of other times. So, the retired revolutionary who fled from the battle ground leaving behind his pregnant girlfriend or the boy of 21years who committed suicide just because he thought his utter existence carries no meaning to him, are all in me. I still remember the days of writing scripts, the half-lit cigarettes, the smell of cannabis, and innumerous clones of me, standing all in my small room. Playing all the parts, poking, teasing, laughing and dying..

It was then I asked myself, ‘Will there ever be a moment of truth for me?’… The smoke deepened on the window-panes, the silhouette made the night sky look like a distant road, I could see all the faces smearing to one another... and a voice deep inside me asked, ‘Will the real me ever stand up?’. I felt like I would puke, but I didn’t and like a blaze of gusty wind her ghost covered my existence.

The last time I entered the rehearsal room. My script is finished. It’s all over for me then. I can look at their faces now, faces that waiting to start a story, of their own, I knew my story is finished. “The last time you are going up there”, someone said from my back. My protagonist smiled. I took a small chair and sat behind the scene, far off from the stage, “let them be alive, let me be dead”, I said to myself. Twenty-three seconds, the spotlight is on. It’s all a new world, being born right there. Far off from the stage, I started feeling her breath touching me. Is she still there?

Ten years before her death, on that day, I fell in love.

Wednesday, June 10, 2009

The corpse and Me ..

“A decade later, when I heard about the news of her death, I could not feel anything… I could still remember the smell of the corpse that hovered in the town for many nights … “

My father was a child of 3 years, when he crossed the first and probably the last border for his lifetime, clutching the hands of a woman already turned schizophrenic as an aftermath of what we call the freedom… little he knew that the generations after him will all bear testimony of something even time wants to forget ..

Long he thought that the ghosts from the old tomb at his place will come someday to visit him, to take him away, and when they finally did, he took less than a moment to recognize his death.
Maybe, after a lifetime of distress, hope had still not forsaken him, for I never again saw the same smile in any dead man’s lip as serene as his.

Maybe, my father was not dreaming at the moment that death struck him and he chose not to leave his dreams to the fear of dying. Years later, when I caressed her for the first time, she confessed that she felt like she will die but she didn’t flinch... She loved it, embraced it. And maybe it was the time she started dreaming of her death… and on that fretful day, when her funeral was almost over, it started raining and I was the only person who knew that she had already dreamt it , dreamt it all.

The police van was waiting outside her house, the corpse lay in her bedroom completely naked, the blood trickled from her wrist and it went down to the table where she had planted a lilac that morning and a half-done poem. They took her to the morgue on the same path she used to go for a walk every evening, the path that lead to eternity. The house was never sold again, for a eerie ambience was always there, and I, sitting comfortably half-a-globe across could smell the rotten corpse. I didn’t know where the smell came from, but, I certainly knew it must be hers.

It was the first time I missed her in decades.


(contd.)